Sunday, December 2, 2018

মশা তাড়াবার ঘরোয়া উপায় homemade remedy to prevent mosquitoes

Homemade remedy to prevent mosquitoes

মশা তাড়াবার ঘরোয়া উপায়


 মশা হল এমন একটি কীট, সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে এক বড় সমস‍্যা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রতি বছর এই মশার কামড়ানোর মাধ‍্যমে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের মৃত‍্যু ঘটে থাকে। ৩ হাজার প্রজাতির মশার মধ‍্যে সব রকমের মশা থেকেই যে অসুখ হয় তা কিন্তু নয়, তবু কোনো মানুষ এটাও চায় না যে মশা তাকে কামড়াক।
 মশার কামড়ের বা বলা যায় মশার উপদ্রপের কবল থেকে রেহাই পেতে মানুষ কি না-ই বা করে থাকে। মশা মারার কয়েল, ধূপ, রেপ্‌লেন্ট, ম‍্যাট, স্প্রে আর‌ও কত কি। কিন্তু দেখুন আমরা যত নতুন নতুন উপায় বার করছি মশা দমনের জন‍্য, বুদ্ধিমান মশারা দিন দিন মানুষকে টেক্কা দেওয়ার জন‍্য তেমন‌ই শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
 এসবের মধ‍্যে আমরা ছোট্টো একটা কথা ভুলে যাচ্ছি যে এসব করতে গিয়ে মশার আগে আমরা আমাদের নিজেদের বা বিশেষত আমাদের বাড়ির ছোটদের অধিক ক্ষতি করে ফেলছি। তাই চেষ্টা করতে হবে কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়ানো সম্ভব।

১. তেজপাতা পোঁড়ানো :-

তেজপাতা হলো একটি প্রাকৃতিক উপাদান।তেজপাতা পোড়ালে তা সাধারণত কারুর ক্ষতি করে না, বরং তেজপাতার ধুয়ো মানুষের মেন্টাল স্ট্রেস্ কমাতে সাহায্য করে। অনেক সময় মাথা ব্যথা থাকলে বা মাথা ধরলে সে ক্ষেত্রেও তেজপাতার ধোঁয়া খুব ভাল কার্যকরী হয়, মাথা ব‍্যাথা কমাতে। এমনকি বহু মেডিটেশন-এর স্কুলেও তেজপাতার পুড়িয়ে তার ধোঁয়া ব্যবহার করা হয়।
এবার আশা যাক মশা তাড়ানোর উপায় হিসাবে তেজপাতার ব‍্যবহার।
প্রথমে একটি বাটিতে ১ চা-চামচ নিম তেল  ও সাথে টি কর্পূ্র গুঁড়ো খুব ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার একটি তেজপাতার উপর দু তিন ফোটা নিম তেল ও কর্পূর-এর মিশ্রণটি লাগিয়ে বা মাখিয়ে দিয়ে তেজপাতাটি একটি বাটির মধ‍্যে রেখে জ্বালিয়ে দিতে হবে। ১ মিনিটৈর মধ‍্যেই ঘরের সব মশা হয়ে যাবে উধাও।
একই সময়ে একটির বেশি তেজপাতা পোড়ানো যাবে, কিন্তু প্রতি তেজপাতার ওপর ওই নিম 

 ● তেলের মিশ্রণটি আগে থেকে লাগিয়ে নিতে হবে এবং তারপর‌ই সেটাকে পোড়াতে হবে,না হলে কার্যকরী হবে না। তবে অবশ‍্য‌ই মথায় রাখবেন এই পদ্ধতিটি ব‍্যবহার করার সময় ঘরের দরজা জানালা যেন বন্ধ থাকে। প্রয়োজনে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন এতে আপনার শরীরকে কোনরকম ভাবে ক্ষতিগ্রস্হ করবে না।

২. নিম তেলের প্রদীপ জ্বালানো :-

একটি পাত্রে 50ml নিম তেল, ৪-৫টা কর্পূর ও ৭-৮টা লবঙ্গ গুঁড়ো করে একসাথে ভালো করে মিশিয়ে সেটি একটি মাটির প্রদীপের মধ্যে ঢেলে সলতের সাহায‍্যে প্রদীপটি জ্বালিয়ে সারারাত রেখে দিলে মশার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তবে এই পদ্ধতিটি ছোটো ঘরের জন‍্য‌ই উপযুক্ত, এবং বিছানার কাছাকাছি জায়গায় প্রদীপটি রাখলে তবেই তা অধিক কার্যকরী হবে।

● যেহেতু সারারাত বারবার করে প্রদীপ জ্বালানো সম্ভব নয়, তাই সেক্ষেত্রে পুরোনো দিনের মত একটি কাঁচের ল‍্যাম্প বানিয়ে তাতে নিম তেলের মিশ্রণটি ঢেলে সারারাত জ্বালিয়ে রাখলে তা সুবিধা পূর্ণ হবে।
● সেক্ষেত্রে যেকোনো একটি কাঁঁচের প‍রিস্কার খালি শিশি নিয়ে, শিশিটির ঢাকনা সামান্য কেটে তার মধ্যে দিয়ে সলতে প্রবেশ করালেই ল্যাম্পটি তৈরি হয়ে যাবে। তবে লক্ষ‍্য করে নেবেন সলতেটি যেন একটু বড় হয়, যাতে তেল অবদ্ধি পৌঁছোয়। আর ঘরে তৈরী এই ল‍্যাম্পটি আপনি বহুদিন ব‍্যবহার‌ও করতে পারবেন।

৩. পাতিলেবুর ব‍্যবহার মশা তড়ানোয় :-

যখন আপনি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে একটেবিলে খেতে বসবেন তখন একটি পাতিলেবুকে দু'খন্ড করে কেটে তার এক-একটির মধ‍্যে গোটা ১৪ থেকে ১৫ টা লবঙ্গ গেঁঁথে রেখে, পাতিলেবুর টুকরো দুটিকে একটি শুকনো প্লেটের মধ্যে রেখে দিলে বেশ কিছুক্ষণের জন্য মশার উপদ্রপ থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

৪. নিম-গোলমরিচের মিশ্রণ :-

শুকনো নিমপাতা গুঁড়ো - ৫০ গ্রাম
রসুনের খোসা গুড়ো - ৫০ গ্রাম 
লবঙ্গ - ২৫ গ্রাম 
লম্বা গোলমরিচ - ২ টো / গোটা গোলমরিচ - ৫-৬ টা
গোটা তেজপাতা - ২ টো

● শুকনো নিমপাতা ডাটির থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গ্রাইন্ডারে ভালো করে গুঁড়ো করে নিতে হবে। এই এক‌ইভাবে রসুনের খোঁসাও গুঁড়ো করে নিতে হবে। এবার লবঙ্গ, গোলমরিচ ও তেজপাতাও একসাথে গুঁড়ো করতে হবে।
● সমস্ত উপকরণ গুঁড়ো করা হলে সামান‍্য জলের ছিটে দিয়ে মিশ্রণটি মেখে মন্ড তৈরী করতে হবে। এবার ওই মন্ড থেকে ছোটো ছোটো লেচি কেটে, সেগুলোকে চোঙ-এর মত (cylindrical shape) লম্বা আকৃতিতে গড়তে হবে (১ ইঞ্চি × ১ ইঞ্চি)।
● এবার এগুলো শুকিয়ে গেলে একটা কৌটৌতে করে রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ব‍্যবহার করা যাবে।
● একটি পুরোনো পাত্রে বা অ্যাশট্রের মধ‍্যে একটি করে চোঙ বসিয়ে নিয়ে, তার ওপর একটি করে কর্পূর রেখে তাতে (কর্পূরে) আগুন দিয়ে জ্বালাতে হবে। তবে ঘুমোনোর সময় কখন‌ই সঙ্গে সঙ্গে জ্বালাবেন না, অন্ততপক্ষে ঘুমোতে যাওয়ার ৩ ঘন্টা আগেই ব‍্যবহার করবেন। আর খেয়াল রাখবেন এটি জ্বালানোর সময় বাড়ির শিশুরা যেন এর একদম কাছে না থাকে।

৫. কর্পূর :-

কর্পূর মশা তড়াবার এক মোক্ষম উপায়। একটি পাত্র বা একটা কগজ নিয়ে, তার ওপর কর্পূর রেখে ঘরের এক কোনায় রেখে দিলে তা বেশ কার্যকরী হয়। কারণ কর্পূর নিজেই খুব উগ্র গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে। ঘরের কোনায় না রেখে নির্দিষ্ট সেই জায়গাতেও রাখতে পারেন, যেখানে মশাদের আনাগোনা বেশী। সেটা জানালার সামনেও হতে পারে।
অবশ‍্য মশার উপদ্রপ যদি বেশী থাকে সেক্ষেত্রে কর্পূর খোলা না রেখে, একটি পুরোনো পাত্রে গোটা কর্পূর নিয়ে, জ্বালিয়ে, সেই ধোঁয়া সারা ঘরে ছড়ালেও মশার উপদ্রপ থেকে রেহাই মেলে।


●●মশা মারার বা তাড়ানোর থেকে মশা না জন্মানোর ব‍্যবস্হা নিন, এতে আমাদের সকলের কাজ সহজ হবে। জল জমতে দেবেন না, বাড়ি-ঘর সর্বদা পরিস্কার রাখুন। শহর আবর্জনামুক্ত করুন। বাড়ির আশেপাশে ব্লিচিং পাউডার ছড়ান। নিজেও সচেতন হন, এবং অপরকেও সচেতন করুন। 

#homemade remedy to prevent mosquitoes

#neem oil#Kapur#tulsi#clove#lemon#bleaching#powder#bayleaves

★ ঘরে তৈরী নিমের তেল -

●উপকরণ :
নিমপাতা বাটা (জল ছাড়া) - ১ বাটি (১০০গ্রাম)
তুলসীপাতা - ২ চামচ (optional)
একটি পরিস্কার সুতি কাপড়

●প্রণালী :

এক্ষেত্রে নিমপাতা বাটার করবার জন্য আপনি মিক্সার গ্রাইন্ডার, শিলনোড়া, কিংবা হামানদিস্তাও ব্যবহার করতে পারবেন। তবে নিমপাতার এই পেষ্টটি বানানোর জন‍্য হামান-দিস্ততাই সবচেয়ে উপযুক্ত। প্রথমত মিক্সার মেশিনে দিলে পেষ্টটি বানানোর জন্য জলের প্রয়োজনীয়তা হবে। কিন্তু এই পেষ্টটিতে জল দিলে এর থেকে তৈরী তেলটি বেশীদিন রাখা যাবে না, নষ্ট হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে জল ছাড়া পেস্টি বানালে তা অনেক বেশি দিন জন্য প্রিজার্ভ (preserve) করা যাবে। আর দ্বিতীয়ত, নিমপাতার এই পেস্টটি মিক্সারে করার পর অন্য কোন কিছু মিক্সিতে বাটলে তা তেতো হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকবে।
●ডাটি থেকে সমস্ত নিমপাতা ও তুলসীপাতাগুলো ছাড়িয়ে রেখে, হামান-দিস্তায় নিমপাতা থেঁতো করার সময় একই সাথে তুলসী পাতাগুলোও দিয়ে দিতে হবে এবং এক‌ইসাথে বাটতে হবে বা থেত করতে হবে।  
●এবার একটি কড়াইতে ৭৫-৮০ গ্রাম বা পেষ্ট অনুযায়ী তার ৩/৪ ভাগ নারকেল তেল দিয়ে গরম হতে দিতে হবে। তেল গরম হলে কড়াইতে নিমপাতা ও তুলসীপাতার বাটা/পেষ্ট দিয়ে ভালো করে নাড়তে হবে। এভাবে ৭-৮ মিনিট ভালো করে নাড়ার পর দেখতে পাবেন মিশ্রণটিতে থেকে তেল বের হতে শুরু ক‍রেছে। সেই মুহুর্তে গ‍্যাস বন্ধ করে দিতে হবে।
● কড়াইয়ে থাকা মিশ্রণটি প্রথমে একটি পরিষ্কার চা ছাকনির মধ্যে ঢেলে নিয়ে তেল পরিস্কার শুকনো কাঁচের পাত্রে ছেঁকে নিতে হবে। তারপর মিশ্রণটি সামান্য ঠান্ডা হলে তা একটি সাদা সুতির কাপড়ের মধ্যে নিয়ে, কাপড়টিকে পুঁটলির মত বেঁধে, তা থেকে চেপে চেপে বাকি তেলটাও বার করে নিতে হবে। 
●জল না ব‍্যবহার করার ফলে এই তেলটি আপনি বহুদিন রেখে ব‍্যবহার করতে পারবেন। এবং সর্বদা তেল রাখার জন‍্য অবশ‍্য‌ই পরিস্কার শুকনো কাঁচের পাত্র‌ই ব‍্যবহার করবেন।
●তৈরী ঘরোয়া পদ্ধতির নিম তেল।
#homemade neem oil
#essential oil
বাজারে আয়ুর্বেদের দোকানে বা grocery shop-এও নিম তেল neem oil খুব সহযেই পাওয়া যায়।

No comments:

Post a Comment

what is Aloevera and benefits of Aloevera

what is Aloevera and benefits of Aloevera                        aloe vera plant Long History of Therapeutic Use Aloe vera is a...