Thursday, November 15, 2018

Besan laddu বেসন লাড্ডু - homemade

BESAN laddu বেসন লাড্ডু

Chickpea Flour Balls


উপকরণ :
বেসন - ২০০ গ্রাম
ঘি - ১৭৫ গ্রাম
চিনি (গুঁড়ো) - ১৫০ - ১৬০ গ্রাম
এলাচ (গুঁড়ো) - ৪-৫ টা
আমন্ডস্ (কুঁচি করা) - ৭-৮ টা বা পছন্দমত
পেস্তা (কুঁচি করা) - ৭-৮ টা বা পছন্দমত

 বিধি :

প্রথমে একটি কড়াই আঁচে বসিয়ে তাতে উপকরণে উল্লেখ করা মাপের ৩/৪ ভাগ ঘি দিয়ে দিন। আঁচ একেবারেই কম করে রাখুন। ঘি গললে সাথে সাথে সমস্ত বেসন-টুকুই ওই ঘি-এর মধ‍্যে মিশিয়ে একদম কম আঁচে নাড়তে থাকুন। আঁচ কখন‌ই বাড়াবেন না।
বেসন প্রথম দিকে ঘি-এর মধ‍্যে পুরোপুরি মিশে যাবে না। ওই মিশ্রণটা অনবরত নাড়িয়ে যেতে হবে। ১ মিনিট এভাবে নাড়ার পর ঘি আস্তে আস্তে বেসন-এর সাথে মিশতে আরম্ভ হবে। যদি দেখেন যে এই সময়েও ঘি আর বেসন একসাথে না মেশে, তবে সেক্ষেত্রে বাকি পড়ে থাকা ঘি টুকুও এই সময় কড়াই-এর মিশ্রণটির মধ‍্যে ঢেলে দিন।
লক্ষ‍্য রাখবেন বেসন যেন কড়াইতে পোঁড়া না লেগে যায়। সমানে নাড়িয়ে যেতে হবে সেক্ষেত্রে।
এভাবে আর‌ও মিনিট দুয়েক নাড়ার পর দেখুন বেসনের রঙ পরিবর্তন হচ্ছে কিনা। দেখবেন বেসন সোনালী রঙের হয়ে উঠবে। যতক্ষণ তা না হচ্ছে এভাবে কম আঁচেই বেসন নাড়িয়ে যান। তবে দেখবেন বেসন-ঘি-এর মিশ্রণটি যাতে একটু পাতলা থাকে। দলা পাকানো যাতে না হয়।
২-৩ মিনিট বাদেই বেসনের রঙ পাল্টে যাবে। ওই সময় এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন বেসনের সাথে।
সোনালী রঙ হলেই ২-৩ চামচ জল কড়াইয়ের মধ‍্যে থাকা বেসনের মধ‍্যে ভালো করে ছিটিয়ে দিন। এতে বেসন দানা দানা হবে দোকানের মতো। হাত দিয়ে জল ছিটিয়ে দিয়ে খুন্তি দিয়ে পুরো বেসনের সাথে জল মিশিয়ে নিন। কিছুক্ষণ নেড়ে নিয়ে গ‍্যাস বন্ধ করেন ফেলুন।
এবার একটি পরিষ্কার থালার মধ‍্যে বেসন ঢেলে ফেলুন। না হলে কড়াইতে রাখলে, কড়াইয়ের তাপে বেসন তখন‌ও কুক (রান্না) হতেই থাকবে। এবার থালায় ঢালা বেসন ঘরের তাপমাত্রায় (room temperature) আসলে, তাতে অল্প অল্প করে গুঁড়ো চিনি মেশাতে থাকুন। বেসন গরম অবস্হায় চিনি দিলে, তা গলে যাবে। তাই সবসময় বেসন ক্ষাণিকটা ঠান্ডা হলে তারপরেই চিনি দেওয়া উচিৎ।
এবার কিছুটা করে চিনি গুঁড়ো বেসনের মধ‍্যে দিয়ে পরিষ্কার হাতের সাহায‍্যে মাখতে থাকুন। ৩/৪ ভাগ চিনি দিয়ে মাখা হলে প্রয়োজনে মিশ্রণ থেকে একটু মুখে দিয়ে দেখুন। কারণ খাবারে মিষ্টির পরিমাণ কারুর একটু বেশী পছন্দের, আবার কারুর একটু কম। তাই এটা দেখে নেওয়াই ভালো। চিনি দিয়ে মাখা হল সেখান থেকে হাতের মুঠোয় বেশ খানিকটা করে নিয়ে, চেপে চেপে বলের আকার গড়ুন। শক্ত বল হলে পরে দু-হাতের তালুর সাহায‍্যে বলটিকে মসৃণ করুন। প্রতিটা বল ধৈয্য ধরে আস্তে আস্তে গড়ুন। কারণ তাড়াহুড়ো করলে লাড্ডু ভেঙ্গে যাবে। এভাবে বাকি লাড্ডুগুলো গড়ে ফেলুন। তবে খুব বেশীক্ষণ মিশ্রণটি ফেলে রাখবেন না। এতে লাড্ডুর বাধন ছেড়ে যাবে।
সব লাড্ডু বানানো হয়ে গেলে সাজানোর জন‍্য অল্প কিছু পেস্তা কুচি ও আমন্ডস্ কুচি লাড্ডুগুলোর ওপর ছড়িয়ে দিলেই তৈরী বেসনের লাড্ডু।
এই বেসনের লাড্ডু একটি কাঁচের বয়ামে করে ৩-৪ সপ্তাহ ধরে রেখে খেতে পারবেন।
এক্ষেত্রে লাড্ডুতে গুঁড়ো চিনির বদলে তাগার দিলে তা আর‌ও সুস্বাদু ও দীর্ঘমেয়াদী হয়। আনন্দে উপভোগ করুন বেসনের লাড্ডু।

★ লাড্ডুর জন‍্য বেসন রান্না করার সময় জল না দিলে দোকানের মত ওরম দানা দানা হবে না। মুখে দিলে লাড্ডু খুব মসৃণ লাগবে। কিন্তু বেসনের লাড্ডু দানা দানা হয়।

Friday, November 2, 2018

ধনতেরাস (dhanteras) পালনের সঠিক পদ্ধতি🎇🎆

ধনতেরাস (dhanteras)পালনের সঠিক পদ্ধতি



ধনতেরাস (dhanteras)পালনের যথার্থ পদ্ধতি

ধনতেরাস বা ধনত্রয়োদশী যা আমাদের অনেকেই প্রতি বছর কালীপুজোর আগে পালন করে থাকি, মূলতঃ বিভিন্ন প্রকারের দামী ধাতু কিনেই তা পালিত হয়। তবে কেউ কি জানেন আসলে ধনতেরাস পালন কেন হয় বা পালনের সঠিক উপায়টি কি? আসুন জানা যাক ধনতেরাস আসলে কি?

  ধনতেরাস নামটি শুনলে প্রথমেই মনে হয়, এইবার ধনতেরাসে একটা ভালো সোনার হার নেবো ভাবছি, কেউ আবার ভাবে এবার ধনতেরাসে স্টিলের বাসনে বাড়ি ভরিয়ে দেবো, আবার কেউ কেউ শুধু একটা চামচ কিনেও বাড়ি ফিরি। কিন্তু ধনতেরাস যে শুধুই ধাতব বস্তু কেনার দিবস তা ঠিক নয়। ধনতেরাস বা ধনত্রয়োদশী হল মূলতঃ কার্ত্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশতম (১৩তম) দিবস। এই দিনটি আয়ুর্বেদের দেবতা 'ধনবন্ত্‌রী' দেবের জন্মদিন। বা অনেকে এই দিনটিকে ধনবন্ত্‌রী জয়ন্তী-ও বলে থাকে। মূলতঃ এই দিন আয়ুর্বেদ দেব ধনবন্ত্‌রী এর উদ্দেশ‍্যেই পুজো করা হয়। কার্ত্তিক মাসের এই ত্রয়োদশীর দিনে পরিবার পরিজনের সুস্বাস্হ‍্যের উদ্দেশ‍্যেই পুজো অর্চনা করাটাই আসল কারণ বা উদ্দেশ্য এই ধনতেরাসের। কিন্তু কালক্রমে 'ধনবন্ত্‌রী' ও 'ত্রয়োদশী'-র মিলিত শব্দ 'ধনতেরাস' পালিত হয় মূল‍্যবান কিছু ধাতব বস্তু কেনাকাটার উদ্দেশ্যেই। 
  তবে যাইহোক ধাতু বা ধাতব বস্তুবিশেষ কেনার যে কোনো কুফল আছে তা একেবারেই বলা হচ্ছেনা এখানে। কিন্তু এক্ষেত্রে লক্ষ‍্য রাখতে হবে কোন্ কোন্ জিনিসগুলি সঠিক ধনতেরাস-এর দিন কেনাকাটার জন‍্য।
  ১. গৃহে লক্ষ্মী-গণেশ-এর মূর্তি স্হাপন- ধনতেরাস এর দিন গৃহে সুখ শান্তি স্হাপনের জন‍্য সর্বপ্রথম যেটি করা ভালো সেটি হল, গৃহে লক্ষ্মী-গণেশ-এর মূর্তি স্হাপন। লক্ষ্মী-গণেশের পুজোর মাধ‍্যমে যেকোনো কাজের শুরুই হল শুভারম্ভ। এতে দুটি পাওনা একসাথে পাওয়া যায়। এক, পুজোর মাধ‍্যমে ঘরে এক positive vibes আসে। যা আমাদের মন শান্ত করে ও জীবনে এগিয়ে চলার এক শক্তি প্রদান করে। আর দুই ধন-ধান‍্যের দেবী লক্ষ্মী এবং সুখ-সমৃদ্ধির দেব বিনায়ক গণেশকে এক‌ই সাথে পাওয়া যায়, যাতে সারা বছর ঘরে ফসল ও ধন সম্পদের প্রাচুর্যাভাব ঘটে। অর্থাৎ 'শুভ লাভ'-এর প্রকৃষ্ট প্রাপ্তি ঘটে।


 ২. প্রদীপ (diya)-  

 কালীপুজো বা dewali-এর উদ্দেশ‍্যে প্রতি বছর আমরা নিজেদের বাড়িকে উজ্জ্বল ও আলোকিত করে তুলি। তার জন‍্য রঙীন আলোর পাশাপাশি আমরা চিরাচরিত সেই মোমবাতি ও প্রদীপ ব‍্যাবহার ক‍রতে ভুলি না কখনো। কিন্তু জানেন কি প্রদীপ আপনার ঘরকে শুধু আলোকিত‌ই করে না, পাশাপাশি ঘরকে রক্ষাও করে!
ধনবন্ত্রী জয়ন্তী-র পাশাপাশি ধনতেরাস-এর দিনে দেবতা যমরাজ-এর উদ্দেশ‍্যেও পুজো হয়ে থাকে। সারা বছরের মধ‍্যে এই একটি‌ই দিন, যেদিন যমরাজ পূজিত হন। ধনতেরাস এর রাত্রিবেলায় একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গৃহ কু-দৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পায়, এবং ঘরে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। তাই প্রদীপ একধারে আপনার ঘর সুন্দর এর পাশাপাশি মঙ্গলময়‌ও করে তোলে।


 ৩. 'কড়ি' হল এমন একটি বস্তু যা আমরা বিভিন্ন ধরনের শুভ কাজে ব‍্যবহার করে থাকি। ধনতেরাস-এর দিন ঘরে কড়ি আনুন। লক্ষ্মী-গণেশ পুজোর সময় কড়িগুলি পুজোর স্হানে রাখুন। পুজো শেষে একটি শুদ্ধ লাল বস্ত্রের মধ‍্যে কড়িগুলি পুটলির আকারে বেঁধে লকার বা যেই স্হানে আপনি ধন-সম্পদ গচ্ছিত রাখেন সেখানে রেখে দিন। সারা বছর আপনার ঘর ধন-ধান‍্যে পরিপূর্ণ থাকবে।

 ৪.স্ফটিকের শ্রী-যন্ত্র- ধনতেরাস পালনের উপলক্ষে বাড়িতে স্ফটিকের শ্রী-যন্ত্র আনা খুব‌ই শুভ জানা যায়। ওই দিন বাড়িতে হ‌‌ওয়া লক্ষ্মীপুজোর সময় স্ফটিকের শ্রী-যন্ত্রের‌ও একসাথে পুজো করে, তারপর সমগ্র পুজো অনুষ্ঠান শেষ হলে পরে ওই স্ফটিকের শ্রী-যন্ত্রটিকে আপনার ধন-সম্পদ গচ্ছিত স্হানে রেখে দিন। ঘরে ধন-সম্পত্তির অভাব ঘটবে না।

 ৫. ধাতব বাসনপত্র- ধনতেরাস উপলক্ষে আমরা খুব সহজত‌ই স্টীল বা অ্যালুমিনিয়াম-এর বাসন কিনে থাকি। তবে পুরাণ মতে, সমুদ্র মন্হনের সময় আয়ুর্বেদ দেব ধনবন্ত্রীর উদ্ভাবন হয় এই দিনটিতে। তাই শরীর ও সুস্বাস্হ‍্য-এর ওপর নজর দেওয়া সবচেয়ে জরুরী বিষয়। পুরাণমত অনুযায়ী স্বাস্হ‍্য‌ই সবথেকে বড় ধন। সেই দিকে নজর রাখলে পিতল, সোনা বা রূপোর বাসনপত্র‌ই হল শরীরের জন‍্য যথাযথ ধাতব। তাই এই ধনতেরাসে ঘরের জন‍্য বাসন কেনার সময় নিজের পরিবারের সঠিক স্বাস্হ‍্যের কথা মাথায় রেখে তারপরেই কিনুন। ধনতেরাস পালনের সঠিক মাহাত্ম‍্য এভাবেই পূর্ণ হবে।

 ৬. কুবের পুজো- ধনতেরাস-এর দিন সন্ধ‍্যের সময় লক্ষ্মী পুজোর সাথে ধন-রত্ন বৃদ্ধির জন‍্য কুবের দেবের পুজোর যথেষ্ট মান‍্যতা রয়েছে। তাই ওই দিন কুবের একটি 
ছবি নিয়ে লক্ষ্মী পুজোর স্হানে রেখে কুবের দেবের‌‌‌ও পুজো করা হয়ে থাকে। এতে সারা বছর ঘরে ধন-সম্পদের অভাব ঘটে না।

৭. 'ঝাড়ু'-এই নামটা শুনলেই সবার আগে মনে হবে, পুজোর দিন সব জিনিসপত্র ছেড়ে শেষে কিনবো ঝাড়ু? তবে জানেন কি, ধনতেরাস পালন উপলক্ষে ঝাড়ুর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। ধনতেরাস এর দিন ঝাড়ু কেনা শুভ। কারণ এই দিনটির মূল উদ্দেশ‍্য সারা ঘর-বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে, বাড়ি চক্‌চকে করে তোলা। এতে পুজোর শুভ মুহুর্তে ঘরের পাশাপাশি মন‌ও সতেজ হয়ে থাকবে। আর একমাত্র স্বচ্ছ পরিষ্কার স্হানেই লক্ষ্মীদেবী বিরাজ করেন।

৮. নুন কিনুন- ধনতেরাস উপলক্ষে বাড়িতে নুন আনা শুভ ধরা হয়। তাই ওই দিন বাড়িতে নের প‍্যাকেট কিনে আনুন। প্রয়োজনে নুন জল দিয়ে বাড়ির মেঝে মুছুন। এতে বাড়ি পোকামাকড় মুক্ত থাকার পাশাপাশি বড়ির জন‍্য শুভ‌ও হবে।

   পুজোর দিনগুলিতে বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখুন। এতে আসনি এবং আপনার পরিবার সুস্হ‍্য থাকবেন, আর আপনার আনন্দে আপনার শরীর কখন‌ই বাধা হয়ে দাড়াবে না। কারণ আমরা সবাই জানি যে Health is Wealth. 💪🎇🎆

★প্রদীপ ও মোমবাতি দিয় বাড়ি সাজান,
তবে বাড়ির বাচ্চাদের আগুনের থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখুন।

#dhanteras#Diwali#Diya#laxmi#ganesh#happy#health#wealth#safety#celebration#kids#enjoyment#metal#shopping

Thursday, October 25, 2018

causes of cancer(কর্কট রোগের কারণ)

  causes of cancer(কর্কট রোগের কারণ)


cancer বা কর্কট রোগ আধুনিক সমাজের সবচেয়ে বড়ো  সমস্যা। বলা যায় আমাদের সমাজ কে ঘিরে ধরেছে এই কর্কট রোগ। যার থেকে মুক্তি  পাওয়া অসম্ভব বলে মনে করছে তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীরা। আধুনিক বিজ্ঞান বহুদূর এগোলেও এই মারণ রোগের থেকে মুক্তি পাওয়ার ঔষধ বর্তমানে নেই বললেই চলে। আমরা জানি যে কেমো থেরাপি হলো এই রোগের ঔষধ বা কর্কট রোগে আক্রান্ত কোনো মানুষ চিকিৎসার জন্য যখন হাসপাতালে যায়, তখন তার উপর এই কেমো থেরাপি করা হয়ে থাকে। এই কেমো থেরাপি করবার কারণ কর্কট রোগের কোষ-কে ধ্বংস করে এই থেরাপি। কিন্তু এই
কেমো থেরাপি শুধু কর্কট আক্রান্ত কোষ কেই ধ্বংস করে না, তার সাথে ধ্বংস হয় আমাদের শরীরের সুস্থ কোষগুলিও। সমস্ত ক্ষেত্রেই দেখা যায় মানুষ এর মৃত্যু ঘটে তার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকার জন্য এর মূল কারণ হলো কেমো দেওয়ার ফলে ওই সমস্ত ভালো কোষ যারা দেহের মধ্যে থেকে রোগ প্রতিরোধ করত তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া।
কিন্তু  বিজ্ঞানের এতো অগ্রগতির সত্ত্বেও আজও আমরা অপারেশন এবং কেমো থেরাপির উপর নির্ভর করে থাকি। কিন্তু এই দুই পদ্ধতির ব্যবহার  হয় কর্কট রোগ হওয়ার পর।
তাহলে আমরা কি অপেক্ষা করবো কবে আমরা এই মারণ রোগে আক্রান্ত হব, তারপর এর চিকিৎসা হবে? নাকি আমরা সুস্থ থাকতেই এমন কি করবো বা কি করবনা যার থেকে আমাদের কর্কট রোগ হবার প্রবণতা কমে যায়।
আসুন জানা যাক কিছু বদ্ অভ‍্যেস সম্পর্কে যা আমরা নিয়মিত করে থাকি, যেগুলির জন্য আমাদের কর্কট রোগ হতে পারে।

১. সঠিক আহার না করা :- কর্কট রোগের  মূল কারণ দেহের মধ্যে ইমিউনিটি নষ্ট হয়ে যাওয়া বা  রোগপ্রতিরোধ  ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া।এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বৃদ্ধি হয় ভাল খাবারের থেকে। তাই সঠিক খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। আজ আধুনিক যুগে আমরা ভুলে গেছি সঠিক আহার কোনটা। আমরা শাক,সব্জির,ফল এর পরিবর্তে খাচ্ছি পিজ্জা ,বার্গার ও অন্যান জাঙ্ক ফুড যাতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক মেশানো হয় এবং যা খেলে আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা হ্রাস পাবেই। তাই জরুরী সঠিক খাবার নির্বাচন করা।

২.অপর্যাপ্ত ঘুম  :-
Early to bed and early to rise
makes and man healthy,wealthy and wise. এর অর্থ আমরা সবাই জানি কিন্তু আমরা  নিজেদের জীবনে এর প্রয়োগ করিনা। ঘুম আমাদের সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।সঠিক ঘুম আমাদের সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সুস্হ থাকার জন‍্য আমাদের প্রত‍্যেকেরই প্রয়োজন ৬ থেকে ৭ ঘন্টা ঘুমের। ঘুমের সঠিক সময় রাত ১১ থেকে ভোর ৬টা। সঠিক ভাবে ঘুম না হলে শরীর ভেঙ্গে যায়, শরীরের যথাযথ ক্লান্তি দূর হয় না, ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে যা কর্কট রোগের প্রধান কারণ।

.ব্যায়াম না করা :- ব্যায়াম আমাদের শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।  ব্যায়াম না করলে দেহের বাজে মেদ বেড়ে যায় যার ফলে আমাদের হৃদপিণ্ডে চাপ বাড়ে, শরীরে অক্সিজেন এর ঘাটতি হয়, যার ফল স্বরূপ আমরা কর্ম ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। আধুনিক জীবনে শরীর কে সুস্থ রাখার মূল অস্ত্র নিয়মিত ব্যায়াম করা। তবে সময়ের অভাব হলে দিনে অন্তত ৩০মিনিট হাটাচলা করতে হবে।



৪.ফল ও সব্জি না খাওয়া :-আধুনিক জীবনের প্রভাবে আমরা প্রাকৃতিক সম্পদ কে দূরে ঠেলে দিচ্ছি। এবং তার বদলে রাসায়নিক দ্রব্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছি। শরীরে ভিটামিন ও মিনারেলস্ এর ঘাটতি হলে ঔষধ খাচ্ছি, যার প্রভাব খুব অল্প দিনই থাকে। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ এই ফল ও সবুজ শাক্ সব্জি যা থেকে আমরা ভিটামিন ও মিনারেল পাই যা আমাদের শরীর কে সতেজ ও চনমনে রাখে এবং সবচেয়ে বড়ো কথা আমাদের শরীরে ইম‍্যুউনিটি প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে রোজ  ফল ও সবুজ শাক সব্জি খেলে।


causes of cancer(কর্কট রোগের কারণ)
causes of cancer(কর্কট রোগের কারণ)


৫.ধূমপানি আসক্তি :- ধূমপান কর্কট রোগের অন‍্যতম একটি মূল কারণ। সিগারেট এর মধ্যে একশত এর বেশি রাসায়নিক পদার্থ আছে, যার মধ্যে পর্যায়ে ৭০টি কারণে কর্কট রোগ হয়ে থাকে।  যার মধ্যে রয়েছে
  ..নিকোটিন 
  ..হাইড্রোজেন সায়ানাইড 
  ..ফর্মালডিহাইড 
  ..লিড 
  ..আর্সেনিক 
  ..অ্যামোনিয়া 
  ..বেনজিন  
  ..কার্বন মনোক্সাইড  
  ..নিত্রসমীনে
 ..পলিসিসিলিক এরোমাটিক হাইড্রোকার্বোনস্
এই সবকটি উপাদানই কর্কট রোগের মূল কারণ। এবং প্রত‍্যেকটি উপাদান‌ই আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয় যার ফল স্বরূপ কর্কট রোগ।


causes of cancer(কর্কট রোগের কারণ)
causes of cancer(কর্কট রোগের কারণ)


৬.মদ্যপান :-অনেকেই ভেবে থাকে অল্প মদ্য পান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক নয়। কিন্তু কথাটি সম্পূর্ণ ভুল। স্বল্প হোক বা মাত্রাতিরিক্ত কোনো অবস্হায়-ই মদ‍্য পান আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে একদম‌ই ভালো নয়। 

৭.গাছপালা কেটেদেওয়া :- গাছ কেটে দেওয়াও আবার কর্কট রোগের কারণ হতে পারে নাকি?অনেকে ভাবছে এটা সত্য নয়, কিন্তু এটা একশো শতাংশ সত্য। আমরা যথেচ্ছ গাছ কেটে যাচ্ছি, এর প্রভাব আমাদের প্রকৃতিতে পড়ছে, যার ফল স্বরূপ পরিবেশ দূষিত হচ্ছে যা আমাদের শরীরে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি করছে, শরীরে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে যার ফল এই মরণ রোগ।

৮.প্রিজারভেটিভ জাতীয় খাদ্য :- আমরা আজ প্যাকেট জাতীয় দ্রব্য সবসময় খেয়ে থাকি। যার মধ্যে থাকছে প্রিজারভেটিভ, যা ওই খাবার কে দ্রুত নষ্ট হতে দেয় না। কিন্তু এই প্রিজারভেটিভ্ আমাদের শরীরে ক্ষতি করছে। 

causes of cancer(কর্কট রোগের কারণ)
causes of cancer(কর্কট রোগের কারণ)



৯.মোবাইলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার :-মোবাইল আধুনিক যুগের অপরিহার্য অঙ্গ হলেও এর ব্যবহারের সীমা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়, কারণ মোবাইলের যে তরঙ্গ ব্যবহার করা হচ্ছে তা জীব দেহের পক্ষে ক্ষতিকারক। মোবাইলের জন্য ব্যবহৃত তরঙ্গ আমাদের দেহ কোষ দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের কোষে ব্যাপক ভাবে প্রভাব বিস্তার করে যার ফল সরূপ মস্তিক ক্যান্সার। 


ব্রিঃ দ্রঃ :-   কর্কট রোগের থেকে দূরে থাকতে হলে বাড়ির খাবার খান ,বাজারের প্যাকেট মশলা বর্জন করুন ,চিপ্‌স ,আইস ক্রিম ও অন্যান মুখরোচক খাবারের(প‍্যাকেট খাবারের) থেকে নিজেরা দূরে থাকুন ও অন্যদের‌ও দূরে রাখুন। প্রকৃতিকে আপন করেনিন, না হলে প্রত্যেক ঘরে ঘরে এই কর্কট রোগ হানা দেবে।


  

Saturday, October 13, 2018

ঘরোয়া উপায়ে রূপচর্চা/ beauty tips

  #beauty


   পুজো কাউন্টডাউন তো শুরু হয়েই গেছে। নিজেকে তৈরী করার জন্য হাতে আর সময় খুবই কম বলা যায়। নতুন জামা কেনাকাটার প্রায় বেশিরভাগটাই কমপ্লিট বলা যায়। তার সাথে ম্যাচিং জুয়েলারি তো চাই ই চাই, বলুন। কিন্তু সমস্যা এক জায়গাতেই, সব নতুন হলেও মানুষ টা তো সেই পুরোনোই। তাই না। তাই এবার আর অপেক্ষা নয়। এই পুজোয় গড়ে তুলুন নিজেকে নতুন এর মতো করে, বানান নিজেকে এবার পুজোর 'তিলোত্তমা'।

   প্রতি বছর বিউটিপার্লার-এ গিয়ে আমাদের অনেকেই বেশ একটা মোটা টাকা খরচা করে আসি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই এই চক্করে আমরা যে কত্ত কেমিকাল নিজেদের শরীরে প্রবেশ করাই, তার ঠিক নেই।
   ফেসিয়াল, ব্লিচিং, ম্যানিকিউর, পেডিকিউর - এই সব এর জন্যই পার্লার-এ বিভিন্ন রকমের কসমেটিক ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। এবং তার বেশি ব্যবহার আমাদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক।
আজ আমরা আলোচনা করব ঘরোয়া কিছু টিপ্‌স এর কথা, যা আপনি ঘরে বসে সহজেই নিজের ওপর ব্যবহার করে ফেলতে পারবেন।


ঘরোয়া উপায়ে রূপচর্চা/ beauty tips


   সঠিক উপায়ে করুন শ্যাম্পু - 

রোজকার এই ধুলো দূষণ এর যুগে শ্যাম্পু তো আমরা প্রায় নিয়মিতই করে থাকি। কিন্তু সেটা কি আদৌ সঠিক উপায় হয় শ্যাম্পু করবার? আসলে না।
আমাদের চুলের যত্নে শ্যাম্পু-এর এক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। আমরা প্রায়ই বলে থাকি 'এই শ্যাম্পুটা ভালো না, এতে আমার খুব চুল উঠে যাচ্ছে'। চুলের জন্য সঠিক শ্যাম্পু নির্বাচনের পাশাপাশি, শ্যাম্পু করার সঠিক উপায়ে টাও জানা প্রয়োজন। তা না হলেই চুল ওঠার মতো বিভিন্ন রকমের সমস্যা শুরু হয়।
●শ্যাম্পু-এ পূর্বে চুলে প্রয়োজন তেল ম্যাসেজ-এর। চুলে খুশকি খুব এ সাধারন ব্যাপার। মাথার স্ক্যাল্প যখন খুব শুস্ক (dry) হয়ে যায়, তখন নখ দিয়ে স্ক্র্যাচ করলে শুকনো চলটা এর মতো উঠে আসে তাকেই খুশকি বলে। সেক্ষেত্রে অয়েল ম্যাসেজ খুব এ উপকারী। যদি শুকনো না হয়ে ভেজা খুশকি হয় তবে সেক্ষেত্রে তেল এর সাথে লেবুর রস (২:১) অনুপাতে 
মিশিয়ে চুলে লাগান। দুক্ষেত্রেই তেল হালকা গরম করা জরুরী।
●তেল লাগিয়ে হাতের আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে মাথায় রাব্ করুন। কখন‌ই জোড়ে ঘষবেন না।
মিনিট ১০-১৫ পরে, গরম জলে তোয়ালে ভিজিয়ে তা মাথায় জড়ান। পুনরায় ১০-১৫ মিনিট রাখুন। তারপর চুল ধুয়ে ফেলুন।
●শ‍্যাম্পু কখন‌ই সরাসরি চুলে দেবেন না, একটু জল মিশিয়ে নেবেন। মোট তিনবার শ‍্যাম্পু করুন এবং প্রতিবার চুল ততক্ষণ ধোবেন, যতক্ষণ না পুরো শ‍্যাম্পু চুল থেকে পুরোপুরি চলে যাচ্ছে।
●চুল পুরোপুরি ধোওয়া হয়ে গেলে চুলকে কন্ডিশনিং করুন। শ‍্যাম্পুর মত এক‌ই ভাবে কন্ডিশনার-এর সাথে সামান‍্য জল মিশিয়ে তারপরে‌ই তা চুলে লাগান। কন্ডিশনার মাথার ওপরিভাগের চুলে কখন‌ই লাগাবেন না। ঘাড়ের পরের ভাগের চুলে লাগান‌টাই সঠিক উপায়। মিনিট ২-৩ রেখে তা ধুয়ে ফেলুন।
●সম্পূর্ণরূপে ধোওয়া হয়ে গেলে একটি তোয়ালে চুলে জড়িয়ে নিন। মনে রাখবেন, চুল কখন‌ই জোরে জোরে ঘষবেন না। এতে চুল গোড়া থেকে আলগা হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তোয়ালেটি ভালো করে মাথায় জড়িয়ে রাখুন ও কিছুক্ষণ বাদে খুলে, পাখার নীচে দড়িয়ে চুল শুকিয়ে নিন।
dryer থকলে তার‌ও ব‍্যবহার করতে পারেন। তবে যতটা স্বাভাবিক নিয়মে করা যায়, ততটাই ভালো।
●চুলের ধরণ অনুযায়ী অল্প হেয়ার সিরাম (hair syrum) লাগাতে পারেন বাইরে বেরোবার আগে। অবশ‍্য ঘরে থাকলে এর খুব একটা প্রয়োজনীয়তা নেই।
●●মনে রাখবেন শ‍্যাম্পু এবং কন্ডিশনার সবসময় এক‌ই ব‍্য্রান্ডের এবং এক‌ই ধরনের হ‌ওয়া আবশ‍্যক। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট কম্পানির dry চুলের shampoo হলে সেই এক‌ই কম্পানির dry চুলের conditioner-ই ব‍্যবহার করুন।



ঘরোয়া উপায়ে রূপচর্চা beauty tips


 ফেসিয়াল - 

চুলের পরপরেই কথা আসে মুখের। 'মুখ' আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  কারণ আমাদের first impression কিন্তু আমাদের মুখ থেকে‌ই পাওয়া যায়। তাই মুখমন্ডল যত মসৃণ ও ঝক্‌ঝকে-তক্‌তকে হবে তাতে সৌন্দর্যের পরিমাণ অনেক গুণ বেড়ে যায়।
 নীচে কয়েকটি পদ্ধতির উল্লেখ করা হল : 

●●সর্বপ্রথম নিজের ত্বকের ধরন (skin type) অনুযায়ী সঠিক ফেস ওয়াশ নির্বাচন করাটা খুব‌ই দরকার। মুখের যত্ন নেওয়ার প্রথম ধাপ মুখ পরিষ্কার করা।
শুষ্ক ত্বক বা dry skin-এর জন‍্য মধু (honey), দুধ (milk), ঘৃতকুমারী (aloe vera) based ফেস্ ওয়াশ‌ই ব‍্যবহার করুন। অর্থাৎ যা আপনার মুখকে নরম রাখতে সাহায্য করবে।
●তৈলাক্ত ত্বক বা oily skin-এর জন্য নিম (neem), তুলসী (tulsi), হলুদ (turmeric), চন্দন (chandan) - based ফেস ওয়াশই ব্যবহার করুন। অর্থাৎ যা আপনার মুখ থেকে অতিরিক্ত তেল ধুয়ে মুখকে পরিষ্কার করে রাখতে সাহায্য করবে।
●● মনে রাখবেন আপনার ত্বক যেমনই হোক না কেন, কখনোই মুখে সাবান ব্যবহার করবেন না। এই গেল মুখ পরিষ্কার রাখার প্রথম ধাপ।

●● মুখ স্ক্র্যাব করা  হলো মুখ পরিষ্কাররের দ্বিতীয় ধাপ। রোজকার ধুলো দূষণে অনেক নোংরা বা dirt কোষের মধ্যমে আমাদের ত্বকে প্রবেশ করে, যা আমাদের ত্বকের শ্বাসপ্রশ্বাসে (skin breathing) বাধা প্রদান করে এবং কোষগুলোকে বন্ধ করে দেয়। তাছাড়া সূর্যের তাপে আমাদের ত্বকে ট্যান পড়ে - যার ফলে আমাদের ত্বককে স্ক্র্যাব করা খুবই প্রয়োজনীয়। স্ক্র্যাব আমাদের ত্বকের মৃতকোষ বা dead cell তুলে দিয়ে নতুন কোষ গড়ে, নোংরা বা dirt দূর করে ও ট্যান রিমুভ করে। ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল ও পরিষ্কার।
শুষ্ক ত্বক বা dry skin - এর জন্য :
৪-৫ টা আমন্ড (almond) গুঁড়ো
২ টেবিল চামচ মধু (honey)
২ টেবিল চামচ আরগন তেল (argan oil)
*আরগন তেল না থাকলে জলপাই তেল (olive oil) ব্যবহার করা যাবে।
--সমস্ত সামগ্রী একটি কাঁচের বাটিতে নিয়ে ভালোভাবে মেশাতে হবে। এরপর অল্প অল্প করে হাতের সাহায্যে সারা মুখে এবং গলায় লাগিয়ে সার্কুলার মোশনে মুখে ম্যাসাজ করতে হবে। ম্যাসেজ কখনই জোরে চেপে হবে না, ম্যাসেজ হবে সর্বদা  হাল্কা হাতে
২ মিনিট এভাবে ম্যাসেজ করার পর ঘরের normal জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে ও একটি পিরিস্কার তোয়ালে দিয়ে 'pat dry' বা হালকা হাতে জল মুছে ফেলতে হবে।
তৈলাক্ত ত্বক বা oily skin -
১ টেবিল চামচ কফি (coffee)
১/২ টেবিল চামচ লেবুর রস (lemon juice)
খুব ব্রণ থাকলে লেবুর রস কম করে দিয়ে (২-৩ ফোঁটা) বাকিটা গোলাপ জল মেশালেও হবে।
একই ভভাবে সামগ্রীগুলো একটি কাঁচের বাটিতে ভালোভাবে মিশিয়ে, মিশ্রণটা মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে, ২ মিনিট মাসাজ করে, জল দিয়ে মুখ ধুয়ে, তোয়ালে দিয়ে মুখ শুকনো করতে হবে।

●● স্ক্র্যাব এর পরেই সাথে সাথে দরকার ত্বককে  ম্যাসেজ করা। স্ক্র্যাব করার ফলে আমাদের ত্বকের কোষগুলো উন্মুু্ক্ত হয়ে পরে।
তাই তাতে পুনরায় দ্রুত ময়লা প্রবেশ করে যায়। তাই তার সঠিক যত্ন ওই সময়টাতেই করা উপকারী।
ম্যাসেজ এর জন্য শশার একটি গোল করে কাটা টুকরো নিন আর সারা মুখে ও গলায় ভালো করে rub করুন সার্কুলার মোশনা। এভাবে ৫ মিনিট ধরে ম্যাসেজ করুন।
শশা সব রকমের ত্বকের জন্য suitable এবং ত্বককে ঠাণ্ডা রাখতেও সাহায্য করে।

●● স্ক্র্যাব এর পর চতুর্থ ধাপ ফেস প্যাক লাগানো।
ফেস প্যাক এর জন্য প্রয়োজন -
২ চামচ বেসন
১ চামচ গ্রীন টি এর জল ও
২ চিমটে হলুদ
-- প্রথমে সমস্ত উপকরণ গুলিকে একটি কাচের বাটিতে নিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি ঘন হলে আপনার তা লাগাতে সুবিধা হবে। তাই গ্রীন টি জল বুঝে পরিমাণ মতোই দিন। মেশানো হলে অল্প অল্প করে নিজের হাতের সাহায্যে সারা মুখ ও গলায় লাগাতে হবে। যাদের ড্রাই স্কিন তারা একটু মধু মিশিয়ে নিন।
১৫ মিনিট এভাবে রেখে তারপর ভালো করে প্যাকটি ধুয়ে ফেলুন। ও শুকনো তোলে দিয়ে মুছে ফেলুন।
এখন আপনি নিজেই আগের থেকে এখনকার আপনার ত্বকের পার্থক্য বুঝতে পারবেন।
●মধু দেওয়ার কারণ যাদের শুস্ক ত্বক বেসন লাগলে তাদের ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই সেক্ষত্রে মধু ত্বককে নরম রাখে বা skin nourish করে।

●● শেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ত্বকের ময়শ্চরাইজ করা।
সম্পূর্ণ ফেসিয়াল এর পর ত্বক পুনরায় সজীব ও সতেজ হয়ে ওঠে। টক তখন নতুন কোষ গড়ে, বন্ধ কোষগুলিকে খোলে। তাই এই সময় হালকা তেল যা ত্বকের natural oil বেরিয়ে আসে। এই সময় খুব oily বা তৈলাক্ত moisturizer না লাগিয়ে নরমাল স্কিন টাইপ এর ময়শ্চরাইসার-ই লাগান।
যাদের ওয়েলী স্কিন তারা অয়েল ফ্রী ক্রিম ব্যবহার করুন। র যাদের ড্রাই স্কিন তারা নর্মাল ফেস ক্রিম ব্যবহার করুন।

● এই ধরণের ফেসিয়াল মূলতঃ রাতের দিকেই করুন। ঘুমের সময় আমাদের স্কিন relaxed বা শান্ত হয়ে থাকে। তাতে আপনার স্কিনের ট্রিটমেন্ট যথাযত হয়।
● যাদের স্কিন খুব dry তারা রাতে শোয়ারআগে aloe vera gel লাগিয়ে শুন।
●এই ধরণের ঘরোয়া ফেসিয়াল মাসে ২-৩ করলে কোনো সমস্যা হয় না।



ঘরোয়া উপায়ে রূপচর্চা beauty tips

● ম্যানিকিউর এবং পেডিকিউর - 

হাত এবং পায়ের যত্ন আমাদের মুখের যত্নের মতো একই রকমের গুরুত্বপূর্ণ যত্ন। তবে আমরা বেশিরভাগই এই দুটো জায়গাকেই উপেক্ষা করে চলে যাই, আর বিশেষত পা কে তো আরো বেশি। হাতে নেইলপলিশ তো সবাই পরে, ব্যাস ওই অবধিই। কিন্তু পায়ের তো বোধহয় সেটুকুও হয় না। সেটা কেউ করে না সময়ের অভাবে, আর কেউ কেউ গুরুত্বহীন ভযাবে বলে। তবে জানেন কি, হাত-পা পরিষ্কার থাকলে আপনার সৌন্দর্য কতগুন বেড়ে যায়। কার ভাল লাগে ওই নোংরা হয়ে থাকা পা বা হাত। এবার পুজোয় আর দেরি না করে, এটাও ঘরোয়া উপায়ে ঝক্‌ঝকে-তকতকে করে ফেলুন।

ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর -

--সর্বপ্রথমে নখে পরে থাকা পুরোনো নেইল পলিশ তুলে ফেলুন। 

--নেইল কাটার এর সাহায্যে নখ প্রয়োজনমত কেটে ফেলুন।
(যেই shape-এ আপনি কাটতে চান)।
একই সাথে ফাইল দিয়ে ঘষে নখের মাথাগুলি সমান করে নিন।

--নখের সার্ফেস যদি খুব অসমান থাকে বাফার এর সাহায্যে তা মসৃণ করুন। দরকার না থাকলে করবেন না।

--এবার একটি ছড়ানো গামলায় বেশ খানিকটা হালকা গরম জল নিয়ে, তাতে নুন ও শ্যাম্পু মিশিয়ে প্রথমে আপনার হাত দুটি এবং তারপর পা দুটিও ডুবিয়ে রাখুন ৫-৬ মিনিট এর জন্য করে।
(পা যদি খুব বেশি নোংরা থাকে সেক্ষেত্রে ওই জলেই ২ চামচ লেবুর রস দিয়ে দিন, খোসাটাও জলেই রেখে দিন, আর তারপর তাতে পা ডুবিয়ে রাখুন। পায়ের জন্য সময়টা একটু বেশি নিলেই ভালো হয়)।

--৫-৬ মিনিট পরে হাত ও পা একে একে জল থেকে তুলে নিয়ে তা ফুট ব্রাশ দিয়ে হালকা হাতে ঘষে নিন।
(ফুট ব্রাশ ঘরে না থাকলে পুরোনো টুথ ব্রাশ আসে করুন)।

--এবার জল দিয়ে ধুয়ে, একটা পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে শুকনো করে মুছে ফেলুন।

--এবার সাথে সাথে নখের নিচের দিকে যে চামড়া থাকে বা cuticle থাকে তা নখ দিয়ে নিচের দিকে ঠেলুন বা push করুন।

--এবার হাতে ও পায়ে ভালো করে ক্রিম লাগান ও হালকা মাসাজ করে নিন।
(ক্রিম যে কোনো নরমাল কোল্ড ক্রিম বা লোশন লাগালেই যথেষ্ট।)
(ম্যাসেজ হাতের ক্ষেত্রে আঙ্গুল থেকে পুরো হাত এবং পায়ের ক্ষেত্রে পুরো ফুট এই করুন)।

--২-৩ ম্যাসেজ হলে শুকনো তোয়ালেতে হাত ও পায়ের ক্রিম একে একে মুছে ফেলুন ও নখে base coat পরে নিন।

--এবার আপনার ইচ্ছে মতো পছন্দের রঙের নেইল পলিশ নির্বাচন করুন ও নিজের হাত ও পা- কে সাজিয়ে তুলুন।

●● মনে রাখবেন, নেইল পলিশ সবসময় ২ কোট করে পড়বেন। প্রথম coat শুকানোর পরই দ্বিতীয় coat টি পড়বেন। এবং ওপরে টপ কোট টি ব্যবহার করতে ভুলবেন না।

●● জলে নুন ব্যবহার করলে আপনার নখে যদি আগে থেকে হয়ে থাকা কোনো ক্ষত বা infection থাকে, তবে সেক্ষেত্রে নুন অ্যান্টিসেপ্টিকের কাজ করে।
●● বেস্ কোট আপনার নখকে সূর্যরশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে। এবং নখের অমসৃণতাকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়।

এটা সম্পূর্ণ ঘরোয়া পদ্ধতি। তাই সপ্তাহে অন্ততপক্ষে একদিন করে ম্যানিকিউর ও পেডিকিউর করুন। এতে আপনার নখও ভালো থাকবে। আর ম্যাসেজ এর ফলে শরীরে ব্লাড সার্কুলেশনও সঠিক থাকবে। আর তৃতীয়ত আপনার হাত পা সুন্দর ঝকঝকে থাকার পাশাপাশি টাকার সেভিংসটাও হয়ে যাবে।

ঘরোয়া ভাবে নিজের যত্ন নিন, ঘরে তৈরী খাবার খান নিয়মিত একটি করে ফল খান, জল বেশি পান করুন, আপনি সহজেই সুন্দর হয়ে উঠবেন।



★ পুজোর কটা দিন ব্যাগে কয়েকটা ব্যান্ড-এইড রেখে দিন। নতুন জুতো পরে পা কেটে গেলে কাজে লাগবে।

Tuesday, October 9, 2018

'তিতলি' আসছে কলকাতায়

     weather

  তিতলি (titli) কোলকাতায়


 'জোড়াল নিম্নচাপ' 

আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যেই☔



     দূর্গা পূজোতে হতে পারে বৃষ্টি, একথা শুনলেই মানুষের মন একেবারেই খারাপ হয়ে যায়। প্রথম কথাটাই মনে হয় 'পুজো আর তাতে বৃষ্টি?' মোটে তো বছরে এই একবারই মা আসেন, তাতেও এত সমস্যা।
    সত্যিই! এ যে বড়ই দুঃখের কথা। কিন্তু আবহাওয়া দফতর যে বলছে, বঙ্গোপসগার-এ সৃষ্টি হয়েছে গভীর নিম্নচাপের। যা থেকে হতে পারে ঝড় ও সাথে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণও।
     নিম্নচাপটির উৎপত্তিস্থল বঙ্গোপসাগর-এর দক্ষিণ-পূর্ব ভাগ, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ। এই ঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে 'তিতলি' নামে। নিম্নচাপ ধীরে ধীরে উৎপত্তিস্থল থেকে উত্তরমুখী হয়ে চলেছে। আন্দাজ করা যাচ্ছে, মূলতঃ ওড়িশা উপকূলের দিকেই ধেয়ে যাচ্ছে নিম্নচাপের গতি। ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝড় আছড়ে পড়তে পারে উপকুলবর্তী এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও। নিনচাপের জেরে কলকাতাতে এই সপ্তাহে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
 

তিতলি (titli) কোলকাতায়

ঝড়ের দরুন সমুদ্র উত্থালপাথাল এর আশঙ্কায় মৎস্যজীবিদের‌ও সমুদ্রে মাছ ধরতে না য‌ওয়ার জন‍্যে আগাম সতর্কতাও জারী করা হয়েছে। শুধুমাত্র এ‌ই সপ্তাহ‌ই নয়, আগামী সপ্তাহে‌ও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে বলছে হা‌ওয়া অফিস।
   বলা বাহুল্য, বৃষ্টি হোক বা নাই হোক, পূজোয় বাঙালীদের ঠাকুর দেখা বহাল থাকছে একথা বলা যায়, বৃষ্টি তা মোটেই আটকাতে পারবে না। তবে আর যাই করুন, ছাতাটা নিতে ভুলে চলবে না এবার পুজোয় আর।
 
★তবে বজ্রপাত হলে অবশ‍্য‌ই নিরাপদ স্হান গ্রহণ করুন।

#titli#natural disaster#Kolkata#rain#durgapuja#depression
☔⚡

Tuesday, October 2, 2018

মাছেও বিষ!




     'মাছে ভাতে বাঙালি' এই বহু প্রাচীন উক্তিটি কে  প্রথম করেছিলেন আমরা তা জানি না, কিন্তু উক্তিটি সর্বৈব সত্য।
     খাবার পাতে মাছ না পরলে সেদিন যেন সব খাবারই ফিকা।
     তা সে মাছ হতে পারে ভাজা বা সরষের ঝাল, হতেপারে টকদই দিয়ে আবার শুধু লঙ্কা আর টমেটো দিয়ে। আর তা কাতলা কিংবা রুই, পার্শে কিংবা ইলিশ হলে তো কথাই হবে না, একেবারে জমে যাবে ভুরি ভোজ।
     বাঙালি মানেই তো মাছ, মানে মাছ এর পরিপূরক বাঙালি বা বাঙালির পরিপূরক মাছ।

     কিন্তু আজ সেই মাছেই বিষ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এক বিশেষ অসাধু ব্যাবসায়ী কিছু টাকার লোভে এই কাজ করছে, যার ফল সরূপ আমরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত  পারি।
     আমরা সকলেই কাটাপোনা মাছের বড় ভক্ত। যা মূলত আমদানি করা হয় অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। কিন্তু এখানেই লুকিয়ে আছে আসল স্বত্ব, যে আমরা রোজ আমাদের প্রিয়জনদের খাবারের সাথে মুখে তুলে দিচ্ছি বিষ, যার রাসায়ানিক নাম 'ফর্মালিন', যা খেলে ক্যান্সার হতে পারে মানুষের।

     সূত্রের  অনুসারে বিহারে গত সোমবার থেকেই  নিষিদ্ধ করা হল অন্ধ্র প্রদেশে থেকে আমদানিকৃত  মাছ। শুধু বিহার নয় পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা পূর্ব ভারতেই এই মাছ আমদানি করা হয় যার মধ্যে পাওয়া গেছে ফর্মালিন নামক এক রাসায়ানিক।
     বিহার সরকারের দাবি, অন্ধ্র থেকে পোনা মাছ চালান কারবার সময়ে ব্যবহার করা হয় এই ফরমালিন নামক রাসায়নিক। দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য এই রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। যা থেকে হতে পারে ক্যান্সার।পশ্চিমবঙ্গেও এই অন্ধ্রের  মাছ আমদানি করা হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ মৎস‍্য নিগম-এর তরফ থেকে এর নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি যে এই আমদানিকৃত মাছে ফরমালিন নেই।
নিগমের তরফ থেকে আরো জানানো হয়েছে  চাহিদার প্রায়  ৫ - ৬ শতাংশ অন্ধ্র থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে। সেই মাছে ফরমালিন দেওয়া আছে কিনা এখনো তেমন কোনো অভিযোগ মেলেনি। তাই এখনো এই মাছ নিষিদ্ধ করবার কোনো প্রশ্ন উঠছে না।
    অপরদিকে বিহার সরকারের দাবি অন্ধ্র প্রদেশ থেকে আসা মাছের নমুনা তে পাওয়া গেছে ফর্মালিন-এর চিহ্ন। প্রতি বছর পর্যায়ে ৬০০০০ মেট্রিক টন মাছ অন্ধ্র প্রদেশ থেকে বিহারে আসত। ২৫ টি  জেলার থেকে ৩৮টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তাতে মিলেছে ফরমালিনের উপস্থিতির চিহ্ন। এমকি পাটনা থেকে মাছের যে নমুনা সংগ্রহ করা হয় তা কলকাতার পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল, তাতে ফর্মালিন ছাড়াও পাওয়া গেছে 'সীসা' ও 'ক্যাডিয়াম' এর মতো ক্ষতিকারক ধাতব পদার্থ, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক।
     এখন প্রশ্ন উঠছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা কিংবা কবে নেওয়া হবে।


টিপস্: মাছ ভালো করে পরিষ্কার করে ধুয়ে, তাতে নুন ও হলুদ মাখিয়ে ফ্রিজে রাখুন প্রিজারভেটিভ্ এর কাজ করবে।

Monday, October 1, 2018

10 Impressive health benefits of Apple আপেল'-এর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা

health

 10 Impressive health benefits of Apple   আপেল'-এর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা




 10 Impressive health benefits of Apple -  আপেল'-এর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা

🍎'আপেল'-এর ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা।।🍎🍏🍎

       আমাদের সকলের কাছে আপেল একটি অতি সুপরিচিত এবং বহুগুণ সমৃদ্ধ একটি ফল।
সুদুর অতীতকাল থেকে‌ই বিভিন্ন পদ্ধতিতে আপেল-এর ব‍্যবহার চলে আসছে।

চলুন এবার আলোচনা করা যাক্ আপেল-এর গুণাগুণ সম্পর্কে।।

🍎১. পুষ্টিকর ফল হল আপেল -

       স্বাস্থ্য‌ই সম্পদ - এই কথাটি হয়ত আমাদের সকলের‌ই জানা রয়েছে। বর্তমান দিনে জনমানব-এর জীবনযাত্রাগত এক বিরাট পরিবর্তন ঘটে গেছে পূর্বের তুলনায়। যার ফলস্বরূপ বিভিন্ন রকমের মারণ অসুখ। প্রয়োজন আমাদের সঠিক জীবনযাত্রা, সঠিক খাওয়া-দাওয়া।
প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল এবং সতেজ শাক্-সব্জি।
আপেল হল এমন একটি ফল, যার পুষ্টিগুণ অন‍্যান‍্য ফল-এর তুলনায় অনেক বেশী।

●সাধারন শরীরের একটি ব‍্যক্তির প্রতিদিন-এর খাদ‍্য তালিকায় ২ পেয়ালা (কাপ) ফল-এর প্রয়োজনীয়তা হয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় ১টি মাত্র মাঝারি মাপের আপেল হল দেড় কাপ ফল-এর সমান।
●১টি মাঝারি মাপের আপেল-এর (১০০গ্রাম) পুষ্টিগুণ:
       ক‍্যালোরি : ৫০-৫২
       কার্বোহাইড্রেট : ২৫ গ্রাম
       ফাইবার : ৪-৫ গ্রাম
       মোট ফ‍্যাট : ০.১৭%
       কোলেষ্টেরল : ০%
        ভিটামিন 'এ' : ২%
        ভিটামিন 'সি' : ৪.৬ মিলিগ্রাম
        ভিটামিন 'ই' : ০.১৮ মিলিগ্রাম
        ভিটামিন 'কে' : ২.২ গ্রাম
        পটাসিয়াম : ১০৭ মিলিগ্রাম
        সোডিয়াম : ১ মিলিগ্রাম
        ম‍্যাগনেসিয়াম : ৫ মিলিগ্রাম
        আয়রন : ০.১২ মিলিগ্রাম
        জল : ৮৫.৫৬ গ্রাম
        থায়ামিন : ০.০১৭ মিলিগ্রাম


🍎২. ওজন হ্রাস-এ আপেল -

  ●আপেল-এ রয়েছে প্রচুর পরিমান-এ ফাইবার এবং জল। 
মূলত বলা হয়, অধিক পরিমাণযুক্ত ফাইবার সমৃদ্ধ খাওয়ার খেলে তা স্বল্প পরিমাণ ক‍্যালোরিকে অনেক বেশী সময়ের জন্য ধরে রাখতে পারে।
এর ফলে ধীর গতিতে আমাদের হজম প্রক্রিয়া চলে। যা খিদের পরিমাণ হ্রাস করে, বা বলা যায় দ্রুত খিদে বৃদ্ধি হতে দেয় না। স্বাভাবিকভাবেই কম ক‍্যালোরি গ্রহণ শরীরে মেদ 
বৃদ্ধি হতে দেয় না, যা ওজন হ্রাস করায়।
 ●ফাইবার-এর মত জল-ও শরীরে এক‌ই কাজ করে। জল আমাদের শরীরে ফ‍্যাট বৃদ্ধি করে না, যার ফলে শরীরে ওজন বৃদ্ধি ঘটে না।
এবং অনেক বেশী সময়ের জন‍্য আমাদের খিদে‌ও পায় না, আর আমাদেকর পেট ভর্তি থাকে।
 ●ওবেসিটি (obesity) কমায়।


🍎৩. আর্থারাইটিস-এ আপেল-এর ভূমিকা -

  আমরা সবাই জানি আপেল বিভিন্ন রকমের হয়। লাল সবুজ এমনকি হলুদও। আমরা ভাবি বেশ লাল রঙের আপেল হলে, খেতে কি-ই না মিষ্টি হবে, তবে সব সময় বোধ তা হয় না, বলুন। এদের মধ্যে ওই যে কাঁচা কাঁচা দেখতে সবুজ আপেল টি, অনেকেই আছে যেটা দেখলে খেতে চায় না, আসলে জানেন কি ওই সবুজ আপেল যা বাড়ায় আপনার হারের শক্তি, করে আপনার হার মজবুত। সবুজ আপেল হারের পাশাপাশি আপনার দাঁত কেও করে মজবুত।
আর হ্যাঁ, এটি খেতেও বেশ মিষ্টি হয়।

🍎৪.ক‍্যানসার প্রতিরোধ করে - 

  ●আপেল-এ আছে হাই ফ্ল‍্যাভোন‌ইড্‌স, আন্টি-ক্যান্সার প্রপারটিস্।
  অর্থাৎ পৃথিবীতে বিভিন্ন জৈবিক সক্রিয় যৌগ উদ্ভিদ পাওয়া যায়। আপেল তারই মধ্যে একটি। আপেল এ রয়েছে কোয়ার্সটিন, যা কিনা হলো অ্যান্টি-ইনফ্ল‍্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপার্টিজ সমৃদ্ধ। অর্থাৎ যা আপনার ইমিউনিটি সিস্টেম কে বুস্ট করে বা ভেতর থেকে শরীর কে সংক্রমণ মুক্ত করে।
 ●এক্ষেত্রে জানা দরকার, আপেল খোসা যুক্ত খেলে  তার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপার্টিস্ অনেক বেশী পরিমাণ-এ পা‌ওয়া যায়।

🍎৫. সুস্হ হৃদয়ের জন‍্য আপেল -

 ●অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রপার্টিস্ অনেক বেশী পরিমাণ-এ থাকায়, আপেল, শরীরে খারাপ কোলেষ্টেরল (LDL or bad cholesterol) জমতে দেয় না, 'অক্সিডেশন' ঘটায়, যা আমাদের হৃদ্‌যন্ত্র (heart) -কে সুস্হ রাখতে সাহায‍্য করে।
    আপেল-এর হাই-ফাইবার যাকে 'পেকটিন' (pectin)-ও বলা হয়, যা সমগ্র cardiovascular system-কে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

🍎৬. রূপচর্চায় আপেল - 

  ●আপেল-এ রয়েছে ভরপুর ভিটামিন সি (c), যা আমাদের ত্বকের কোলাজেন (collagen) গড়তে সহায়তা করে।
 প্রতিনিয়ত আমাদের ত্বক ধূলো, দূষণ, সূ্র্যরশ্মি দ্বারা ক্ষতপ্রাপ্ত হয়ে‌ই চলেছে, যা সাধারনত খালি চোখে আমরা বুঝে উঠতে পারি না। যার ফলে আমাদের ত্বকের প্রোটিন (collagen)-এর ঘাটতি হয়ে যায়। 
 ●আপেল-এর মধ‍্যে রয়েছে ভিটামিন সি ও কপার (copper), যা ত্বকে মেলানিন (melanin) প্রস্তুত করে ত্বকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির হাত থেকে বাচায়, এবং ত্বকে প্রোটিন উৎপন্ন করে।

🍎৭. স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখে - 

  ●আপেল আমাদের সমগ্র শরীরের স্নায়ুতন্ত্রে এক উদ্দীপকের ন‍্যায় কাজ করে।
  আপেল-এর মধ‍্যে থাকা পেকটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের immunity বাড়ায় (boost) করে, যার ফলে
  ●হৃদস্পন্দন (heartbeat) বাড়ায় এবং
  ●শরীরে নতুন রক্ত উৎপন্ন করে।
  ●অ্যালজাইমার (alzheimer's) এবং পারকিনসন্ (parkinson's disease)-এর মত অসুখ-এও আপেল-এর ভূমিকা বিশেষ উল্লেখযোগ‍্য।

🍎৮. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রক - 

    ডায়াবেটিস হ‌ওয়া মানেই নিজের প্রতি পূর্বের তুলনায় অধিক সাবধানতা অবলম্বন করা। সবার আগেই বাতিল করা হয় খাবারকে। কিন্তু সব খাবারেই কি এক‌ই পরিমাণ শর্করা (sugar) ভাগ থাকে? এখানে মুলতঃ ফল এবং শাক-সব্জির কথা বলা হচ্ছে।
  আপেল-এ কার্বোহাইড্রেট পরিমাণ বেশী থাকায় তা দেহে রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, তথাপি এর মধ‍্যে থাকা ফাইবার শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, যাতে শরীরে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় না। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা সারাদিনে একটি আপেল খেতেই পারে।

🍎৯. বয়স নিয়ন্ত্রক-

  ●শরীরে রক্ত চলাচল সঠিক হলে
  ●পর্যাপ্ত জল বজায় থাকলে
  ●অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত খাবার খেলে,
শরীর, স্বাস্হ‍্য এবং ত্বক - এই সব ক্ষেত্রেই সুফল নজরে পড়ে, আর এক্ষেত্রে 'আপেল' হল অনবদ‍্য উদাহরণ।
  যার ফলে আপনার ত্বকের বয়স বৃদ্ধি পায় না।
  আপনার যৌবন রূপ বজায় থাকে অনেক বেশী দিন পর্যন্ত।

🍎১০. পেটের বা কোলোন (colon) সমস‍্যায় সহায়ক -

   প্রতিনিয়ত এই কঠিন জীবনে কোনো না কোনো অসুখের সাথে আমরা প্রায় সকলেই জড়িত। 'ব‍্যাথা' এমন একটি বিষয়, যা কমানোর সহজ উপায় হিসাবে বেছে নি 'ব‌্যাথা-নিরামক ওষুধ' বা 'pain killer'কে।
 আমরা কখনো জেনে আবার কখনো অজান্তে প্রায়‌ই এই বিষ গ্রহণ করে থাকি।
  pain killer বা nonsteroidal anti-inflammatory drugs হল এমন 
একটি জিনিস যা আমাদের পাকস্হলীর ভেতর অংশে এক ধরনের ক্ষত ফেলে দেয়।
  ●chlorogenic acid এবং catechin হল এমন দুটি উপাদান যা এক্ষেত্রে পাকস্হলীকে সুস্হ রাখতে সাহায‍্য করে। পেট (gutt system) ভালো থাকে।।




      ◆আলোচ‍্য‍ বিষয়টি তথ‍্য সংগ্রহাবলী থেকে সংগৃহীত
      ◆বিশেষ রোগ থাকলে ব‍্যক্তিগত ডাক্তার-এর পরামর্শ গ্রহণ কাম‍্য‍।

Besan laddu বেসন লাড্ডু - homemade

BESAN laddu বেসন লাড্ডু Chickpea Flour Balls উপকরণ : বেসন - ২০০ গ্রাম ঘি - ১৭৫ গ্রাম চিনি (গুঁড়ো) - ১৫০ - ১৬০ গ্রাম এলাচ (গু...